Breaking News

শৈশব কাল থেকে সন্তানদের প্রতি বাবা মায়ের যে ১০ টি ভুলের কারণে পরে আফশোস করতে হয়

ঈশ্বর মানুষের কাছে সব সময় থাকতে পারেন না বলেই তার পরিবর্তে তিনি জগতে বাবা-মাকে পাঠিয়েছেন।প্রত্যেক বাবা-মার কাছে তাদের শ্রেষ্ঠ উপহার তাদের সন্তান। প্রত্যেক অভিভাবকরাই চায় জীবনের সেরা সম্পদ নিজের সন্তানকে দিতে। শুধু মনুষ্যজাতি নয় সম্পূর্ণ জীবকুল চায় যাতে তাদের “সন্তান থাকে দুধে ভাতে”।জন্মের শুরু থেকে স্বনির্ভর হওয়া পর্যন্ত সব সময় সমস্ত বিপদ থেকে আগলে রাখে মায়েরা।

সব বাবা মা তাদের সন্তানের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেন।তাদের খেলনা কিনে দিতে অনেক একটু বেশি পরিশ্রম করেন আবার অনেকে শিশুদের খেলনা দিয়ে বড় করতে নারাজ। কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে স্থির লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিচালিত করেন। ঠিক বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। সব বাবা মায়ের স্বপ্ন থাকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলার।কিন্তু শিশুকে গড়ে তোলার সময় তারা এমন কিছু ভুল করে বসেন যার জন্য ভবিষ্যতে তাদের অনুশোচনা করতে হয়।

শিশুর প্রথম কয়েক বছর জাদুর মত কেটে যায়। এই বয়সগুলো তাদের হেসেখেলে কাটানোর সময়।আর এই সময় তাদের পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশ ঘটে এবং ভবিষ্যতে সে বাবা-মা পরিবার সমাজ এবং পৃথিবীর জন্য কি করবে তার ভিত্তি স্থাপন হয়। এসময় তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ভবিষ্যৎ জীবনের উপর দাগ কেটে দেয়। অনেকাংশে তাদের প্রতি বাবা মায়ের আচরণ প্রবলভাবে তাদের শিশু মনে প্রভাব বিস্তার করে। সেই আচরণগুলির কথা আজকে আলোচনা করা হবে।

প্রথমত) শিশুর প্রতি সজাগ দৃষ্টি দেওয়া: শিশু কাল থেকে বড় হয়ে ওঠার জন্য তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সান্নিধ্য খুবই প্রয়োজন। তাই তাদের সাথে বাবা-মায়ের যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।যদি তা না করা হয় তাহলে তারা একাকিত্বে ভোগে এবং নিজের ক্ষুদ্র মন যা ভালো মনে করে তাই করতে শুরু করে।যেহেতু তারা জীবন সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না সেহেতু তারা এমন কিছু ভুল করে বসে যাব তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ত ) শিশুদের আলিঙ্গন না করা: গবেষকরা দেখেছেন শিশুদের মানসিক এবং শারীরিক বিকাশের জন্য বাবা-মায়ের আলিঙ্গন খুবই জরুরি একটা বিষয়। অজ্ঞতা কিংবা কাজের চাপে শিশুকে আলিঙ্গন করতে ভুলে যান অনেক বাবা-মা। এটা তাদের মধ্যে শূন্যতাবোধ সৃষ্টি হয় শিশুদের মনে।

তৃতীয়ত) শিশুদের ছবি না তোলা :অনেকে বলবেন,ছবি তোলা এমন কিছু না, কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। চাইলে ছবি তোলা যায়। শুধু ছবি কেন ভিডিও করতে কি খুব কষ্ট করতে হয়? ছোট্ট এই কাজটি শিশুর মানসিক পূর্ণতা তৈরিতে সাহায্য করে এবং বাবা-মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর করে তোলে।শৈশবের এসব স্মৃতি পরবর্তী জীবনে বাবা-মায়ের প্রতি তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।

চতুর্থত) শিশুর প্রথম কথা লিখে রাখা: সুন্দর একটি স্মৃতি তাদের জীবনকে আরো আনন্দময় করে তুলতে পারে। প্রথম বুলি লিখে রাখলে তার প্রতি আপনি কতটা যত্নশীল ছিলেন তা প্রকাশ পায়। খুব কঠিন কোন কাজ না এটা। তবুও অনেক বাবা-মা এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন না। সেই দিকে একটু মনোযোগ হলেই তা করা সম্ভব।

পঞ্চম) শিশুর সৃজনশীলতার প্রতি নজর না দেওয়া: আমরা বলছি না যে সৃজনশীলতার প্রতি নজর দিলে সে বড় চিত্রশিল্পী কিংবা কোনো নামকরা গায়ক হয়ে উঠবে। কিন্তু তাঁর সৃজনশীল কাজ কে উৎসাহিত করলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাবে। সৃষ্টিশীল এবং নান্দনিক হয়ে গড়ে উঠবে।কিন্তু যদি তা না করেন তবে সে বিকৃত মানসিকতা নিয়ে বড় হবে যার ফলাফল আপনি নিজেই ভোগ করতে হবে।

ষষ্ঠত) শিশুদের প্রতি কঠোর আচরণ করা:
শিশুরা ভগবান নয় যে ভুল করবে না।ভুল থেকে শিক্ষা নিতে নিতেই একদিন সে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবে।কিন্তু রূঢ় আচরণ কোন শিশুমন নিতে পারেনা এবং কোমল মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।তাই তাকে তিরস্কার না করে একটু কৌশলী আচরণ দিয়ে তাঁর ভুল ধরিয়ে দিন।না হলে তিক্ততা বাড়তে বাড়তে এক সময় আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।

সপ্তমত শিশুকে চাওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়া: আমাদের নিজেদেরওএই কথা শুনে বড় হচ্ছে তোমার এটা করার বয়স হয়নি বড় হলে করো। এই কথাগুলো শিশুকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য প্রত্যেক বাবা-মায়েরই বলেন। কিন্তু তাতে শিশুর চাওয়া গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সে হীনমন্য স্বভাব নিয়ে বেড়ে ওঠে। যে শিশু হীনমন্যতায় বড় হবে তার দ্বারা সবথেকে বড় ভুল গুলো সংঘটিত হয়। তাই তার চাওয়া অযৌক্তিক হলেও শুনুন তাকে বুঝিয়ে দিন কেন এখনি এই কাজগুলি করার যোগ্য সে নয়।

অষ্টমত ) শিশুদের প্রতি আনন্দের ব্যবস্থা করা: কোমলমতি শিশুদের মন সবসময় আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। তারা খেলতে চায়, হাসতে চায়, বেড়াতে যেতে চায়।দুঃখ ভারাক্রান্ত শৈশব নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশুদের আনন্দের মাঝে বেড়ে ওঠা শিশুদের থেকে ভবিষ্যতে অনেক পিছিয়ে থাকে। মানসিক বিকাশে পরিপূর্ণ হয় না তাদের।এজন্য তাদের আচার-আচরণ এবং গতিপ্রকৃতি স্বাভাবিক হয় না। তারা আপনার সাথে খারাপ আচরণ করতে পারে। হয়তো একদিন আপনাকে সে ছেড়ে চলে যাবে।

নবমত) কারো কথায় কান না দেওয়া; সমাজে বারো রকমের মানুষের বারো রকমের চাওয়া। আর তা যদি আপনার শিশুর ওপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেন তাহলে আপনাকে তা প্রতিহত করতে হবে।সন্তানটি আপনার।যারা অযথা উপদেশ দিয়ে বেড়ান তাদের কথায় কান দেবেন না। তাদের কথা শুনে যদি শিশুকে বড় করতে চান তাহলে শিশু তার স্বকীয়তা হারাবে। ভবিষ্যৎ জীবনে তার ফলাফল ভয়াবহ। সে সময় এই উপদেশ দাতারা আপনার সাথে থাকবে না কিন্তু ভয়াবহতার মুখোমুখি আপনাকেই হতে হবে।

দশম ) সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উৎসবের সময়ে আপনি তাদের কাছে থাকেন না এমন অনেক সময় আছে যা আপনার কাছে গুরুত্ববহন না করলেও শিশুদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা কে সবথেকে আপন মানুষ হিসেবেই চেনে আসে সে।তাই জন্মদিন ঈদ-পূজা জাতীয় বিভিন্ন দিবসে তারা বাবা-মায়ের সাথে আনন্দ উপভোগ করতে চায়। চিন্তার জন্য বিশেষ সময় গুলোতে যদি তাদের কাছে না পাওয়া যায় তাহলে তারা অসহায় বোধ করে। এক ধরনের একাকিত্বকে ঘিরে ধরে এবং বড় হলেও তা কাটেনা।যা তাকে আগ্রাসী করে তোলে এবং আপনার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

About admin

Check Also

আপনার কাছে এই পুরাতন নোটগুলি থাকলে আপনি রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাবেন কীভাবে জানুন।

মুদ্রা পরিবর্তনের নতুন নিয়ম সরকার তৈরি করেছে এবং সরকার তার নিয়ম অনুযায়ী মুদ্রা পরিবর্তন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *