Breaking News

মঙ্গলবারে হনুমানজির উদ্দেশ্যে ভক্তিভরে শুধু এইটুকু নিয়ম করুন জীবন পুরোপুরি বদলে যাবে

হিন্দুশাস্ত্রে তেত্রিশ কোটি দেব দেবীর কথা উল্লেখ আছে। আর এই প্রত্যেক দেব দেবীর আরাধনার একটি নির্দিষ্ট তিথি রয়েছে। আমাদের সপ্তাহের প্রত্যেকটি দিনই কোন না কোন দেব দেবীর পূজার কথা উল্লেখ আছে। তেমনি মঙ্গলবার হিন্দু শাস্ত্রে হনুমানজীর পূজোর কথা উল্লেখ আছে। মঙ্গলবার হনুমানজীর পূজো করলে পারিবারিক অশান্তি দূরীভূত হবে। পরিবারের উপর কুদৃষ্টি পড়বে না। মঙ্গলবার হনুমান জীর পূজো করা হয় কারণ মঙ্গলবার হনুমানজী জন্মেছিলেন, তাই সপ্তাহের এই দিন হনুমানজীর পূজো করার উপযুক্ত সময়।

শনিবারও হনুমানজীর পূজো করা যায়। এই নিয়ে শাস্ত্রে একটি বাখ্যা রয়েছে – যখন লঙ্কা অধিপতি রাবন নবগ্রহ কে বন্দি করেছিলেন তখন হনুমানজী ওই সময় সীতা কে উদ্ধারের জন্য লঙ্কায় ছিলেন। হনুমান নবগ্রহকে উদ্ধার করেন আর নবগ্রহের মধ্যে শনিদেব হনুমান কে আশীর্বাদ দেন যে হনুমান দেব তার ভক্তের উপর কোন দিন শনি দেবের কুদৃষ্টি পড়বে না। তাই শনিবার হনুমানজীর পূজো করা হয়।

হনুমানজীর পূজোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরনঃ হনুমানজীর পূজোর আগে হনুমানজীর মুর্তির সামনে প্রদীপ, ধুপ, কলা, জল, সিন্দুর, লাল কাপড় রাখতে হবে। শাস্ত্র মতে লাল কাপড় পরিহিত হনুমানজীর মুর্তি বেজায় শুভ তাই হনুমানজীর উদ্দেশ্য লাল কাপড় নিবেদন করা হয়।

হনুমানজীর পূজোর পদ্ধতিঃ পূজার জায়গাটি ভালো করে পরিষ্কার করে লাল কাপড়ের উপর হনুমানজীর মুর্তি বা ফটো রাখুন। পূজোর আগে হনুমানজীর মুর্তিটি ভালো ভাবে ধুয়ে নিন। ঠাকুরের সামনে ধুপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে দিন। হনুমানজীর গলায় মালা পরিয়ে দিন। হনুমান চল্লিশ পাঠ করতে পারেন। হনুমানজীর উদ্দেশ্য পাঁচটি কলা দান করতে ভুল করবেন না। কারন এই ফলটি হনুমানজীর খুব প্রিয়। হনুমানজীর পূজো করলে কি কি উপকার হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হল…

১) প্রতি মঙ্গলবার স্নান করে হনুমানজীর পূজো করলে ও হনুমান চল্লিশা পাঠ করলে মনের অন্দরে থাকা ভয় দূরীভূত হবে। এর ফলে আপনি সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে পারবেন।

২) প্রতি মঙ্গলবার হনুমানজীর পূজো করলে পরিবারের ধন সম্পদের অভাব হয় না।

৩) নিয়ম করে হনুমানজীর পূজো করলে আপনার মনের ইচ্ছাপূরণ হয় এবং আপনি মনের মত চাকরি পেতে পারেন।

৪) হনুমানজীর পূজো করলে আপনার বুদ্ধির ধার বাড়বে। আপনি সহজেই সবকিছু জয় করতে পারবেন।

৫) হনুমানজীর পূজো করলে আপনার গুড্ লাক্ আসতে বেশি সময় লাগবে না।

হিন্দু পুরাণ মতে হনুমানের জন্ম হয় ভগবান শিবের বরে, হনুমান এর মাতা অঞ্জনা হলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত, স্বয়ং ভগবান শিব অঞ্জনার ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে তাকে বীর সন্তানের জননীর বর প্রদান করে ৷ হনুমানকে বিশেষ স্থান দেয়া হয়েছে পূরাণ কাহিনিতে। রামায়ণ বর্ণিত হনুমান পবননন্দন হিসেবে হিন্দুদের নিকট পূজনীয়। রামায়ণের মূল চরিত্র রাম যাকে হিন্দুরা ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দাবি করে তার অনুগত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। তিনি বায়ুদেবতার পুত্র। হিন্দুদের কাছে হনুমান রামভক্ত হিসেবে পরিচিত।

আজ হনুমান জয়ন্তী বিশেষ এই দিনে কয়েকটি নিয়ম মেনে হনুমানজীর আরাধনা করতে পারলেই মলতে পারে আপনার সার্বিক উন্নতি, মিলবে সৌভাগ্য। বজরঙ্গবলি প্রতিটি ভক্তের কামনা ও বাসনা পূরণ করেন। জীবনের অতি সঙ্কটেও তাঁকে স্মরণ করলে জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে। বজরঙ্গবলির পছন্দের খাবার লাড্ডু, কলা, ক্ষীর৷ এছাড়াও মেটে সিঁদুর দিয়ে পুজো করলে তিনি বেশ প্রসন্ন হন৷ জেনে নেওয়া যাক কোন নিয়মে হনুমানজীর পুজো করলে সকল বাধা কাটিয়ে উছতে পারবেন, সেই নিয়মগুলি সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।

এই দিনে যদি উপোস করে হনুমানজী আরাধনা করতে পারেন তবে আপনার জীবনে সৌভাগ্য ফিরে আসবেই।পুজো করে তবে উপোস ভঙ্গ করতে হবে। জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতি মঙ্গলবার, হনুমানজীর পুজো করুন। শুদ্ধ মনে, শুদ্ধ বস্ত্রে লাল ফুল অর্পণ করুন হনুমানজীর উদ্দেশ্যে, আপনার জীবনের সমস্ত বাধা কেটে যাবে ধীরে ধীরে।

পুজো শেষে হনুমান চল্লিশা পাঠ করুন।সম্ভব হলে মঙ্গলবার দিনটি নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। হনুমানজীর পুজো করে সেদিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করা উচিৎ, তবে এই বিষয়ে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি চাইলে নিরামিষ আহার গ্রহণ করতেই পারেন। অনেকেই এই দিনটিতে নিরামিষ আহার গ্রহণ করে থাকেন। মঙ্গলবারের জন্য লাল রং অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তাই এদিনে লাল বস্ত্র পরিধান করুন, সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে যাবে।

হনুমান চল্লিশার প্রথম চৌপাইটি হল-‘ভুত পিসাস নিকাত নাহি আভে, মহাবীর জাব সুনাভে’৷ আপনার বাড়ি থেকে সমস্তরকম নেগেটিভ এনার্জি দূর করতে হনুমান চল্লিশার গুরুত্ব অনেক৷ প্রতিদিন ১০৮বার করে এই মন্ত্র জপ করা উচিত৷ এমনই আরও গুরুত্বপূর্ণ আরও চারটি চৌপাই রয়েছে৷ যেগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ দ্বিতীয় চৌপাই-নাসে রোগ মিটে সাব পীরা, জাপাট নিরন্তর হনুমান বালবিরা, তৃতীয় চৌপাই-অসত সিদ্ধি নাভ নিধি কে দাতা, অ্যাস বার দীন জানকি মাতা, চতুর্থ চৌপাই-বিদ্যাবান গুনি অতি চতুর, রামকাজ করিবে কো আতুর, পঞ্চম চৌপাই-ভীম রূপ ধারি অসুর সংহারে, রামচন্দ্র জি কে কঞ্জ সাভারে৷

মঙ্গলবার এবং শনিবার অবশ্যই বাড়িতে হনুমান পূজা করুন৷ যদি সম্ভব হয়, তাহলে অবশ্যই মন্দিরে যান এই দুটি দিন এবং নিরামিষ খাওয়ার খান এই দুইদিন৷ মন্দিরে গিয়ে পূজা করবেন যখন তখন অবশ্যই তিল, চিনি মন্দিরে রেখে আসুন৷ প্রতি মঙ্গলবার হনুমান ঠাকুরের সামনে ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালান৷ তবে, ভগবানের চেয়েও একজন বন্ধু এবং গুরু হিসেবে অনেকে হনুমানকে মেনে চলেন৷ সমস্ত রকম সমস্যা থেকে সমাধান সম্ভব যদি হনুমান চল্লিশা পড়েন প্রতিদিন৷ ডিপ্রেশন থেকেও মুক্তিলাভ সম্ভব৷ আপনার ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে হলে অবশ্যই হনুমান চল্লিশা পড়ুন৷

রামায়নের অন্যতম মুখ্য চরিত্রে ছিলেন হনুমান৷ সীতাকে রাবণের কাছ থেকে উদ্ধার করার লক্ষে রামকে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করেছিলেন হনুমান৷ সমস্ত রকম সমস্যার সমাধান সূত্র ছিল হনুমানের কাছে৷

About admin

Check Also

শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী হয়েও 60 জন দরিদ্র শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষাদান করেন ইনি, শুধু লাঠিতে ভর করে টিউশন পড়াতে যান।

সমাজে নিজের যোগদান দেওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষই কোনো না কোনো বাহানায় পিছু হাটতে চান। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *