Breaking News

সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালিয়ে, ছোট্ট একটি ঘরে সবার সঙ্গে থেকে উচ্চমাধ্যমিকে 96 শতাংশ নম্বর পেল ফাজিয়া

 

প্রত্যেক মা-বাবাই তার সন্তানদের ছোট থেকে নৈতিক শিক্ষা বড় করে তোলেন। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তবে সকলেই জন্মের পর থেকে এমন পরিবেশ হয়তো পায়না। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। ইচ্ছা পূরণের প্রবল বাধা থাকলেও তা অতিক্রম করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এমনই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বড় হয় দ্বাদশ শ্রেণির এক ১৮ বছর বয়সী ছাত্রী সিবিএসই বোর্ড পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

দিল্লির সিলামপুরের জেজে বস্তিতে একটি ৬৯/৭০ বর্গফুট ঘরের মধ্যে মা, ভাই এবং তিন বোনকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করে ফাজিয়া। বোর্ড পরীক্ষার আগে ফাজিয়া প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির কাজকর্মের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতো।তবে, তার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কর্তব্য এবং কাজগুলি সাফল্যের পথে তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিল সে। তার ফলাফল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া।

সংবাদসূত্র কে সে জানিয়েছে,কোনও টিউশন বা শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই ফাজিয়া তার পরিবারের দায়িত্ব এবং পড়াশুনা একসাথে চালিয়ে গিয়েছিল। তবে প্রতিদিন কাজ সামলে পরিবারের দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা করা খুবই কঠিন ছিল। বস্তিতে থাকার কারণে সেখানে প্রচন্ড হইচই হট্টগোল লেগেই থাকে। একমাত্র রাত্রিবেলা ছাড়া পড়ার সময় হতো না। কারণ রাত্রিটা একমাত্র নিঃশব্দে থাকতো। সারাদিন কাজকর্ম স্কুল সামলে নিঝুম রাত্রি পড়াশোনার উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছিল ফাজিয়া। ফাজিয়ার জীবন সংগ্রামের সম্পর্কে জানতে পেরে আশা সোসাইটি নামে একটি এনজিও এগিয়ে এসে তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিল।

ওই সমাজসেবী সংস্থা পড়াশোনার সামগ্রী সরবরাহ করতো। ওই সংস্থাটি মক টেস্টের প্রশ্নাবলী,খাতাপত্র সবকিছু দিয়ে যাতে ফাজিয়া পড়াশোনা করে এগিয়ে যেতে পারে সেই দিক থেকে সব রকম সহায়তা করত। ফাজিয়ার মা ক্যান্সার আক্রান্ত।তিনি এবং তার মৃত স্বামী সর্বদা চেয়েছিলেন তাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করে জীবনের সফলতা অর্জন করুক। ফাজিয়ার এক ভাই দিনমজুরের কাজ করে।ফাজিয়া নিজেও সংসারকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় দিন-রাত পরিশ্রম করে।

ফাজিয়া তার সেলাইয়ের কাজ থেকে মাসিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা উপার্জন করে। বড় হয়ে ভবিষ্যতে ভূগোলের শিক্ষিকা হতে চাই সে।উত্তর-পশ্চিম দিল্লির বাইরে কখনও পা না রেখে ফজিয়া সিকিমকে সর্বাধিক দেখার স্বপ্ন দেখে ফাজিয়া। দিল্লির এক বস্তির মেয়ে দিনের পর দিন জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে আর পাঁচটা সংগ্রামী মেয়ের সামনে এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়ালো।

About admin

Check Also

গবেষণায় দেখা গেছে অল্পবয়সী দম্পতিরাই বিয়ের পর বেশি পরিমাণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, কারণ জানলে চমকে যাবেন

বিয়ে করার মনোভাব সাধারণত দুই রকমের হয়। এক হয় সদর্থক, অর্থাৎ কেউ বিয়ে করতে চান।আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *