Breaking News

দিল্লি হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী স্ত্রীর যৌ’ন সম্পর্কে অনিচ্ছা থাকলে, বলপূর্বক জোর করলে স্বামীকে পড়তে হবে যে সমস্যায়

কিছুদিন আগে গুয়াহাটি হাইকোর্টের একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা নিয়ে উ’ত্তাল হয়েছিল সারাদেশ। হিন্দু মহিলার শাঁখা সিঁদুর পরতে না চাওয়ার অর্থ তার বিয়ে কে অস্বীকার করা। এই শুনানির বিরু’দ্ধে সরব হয়েছিলেন প্রত্যেক নারী। কিছুদিন পরে আবার কর্ণাটক হাইকোর্ট ধ’র্ষকের অভিযুক্তকে জা’মিন দিয়েছেনশুধু এই কারণে যে তার ধ’র্ষণের পরে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়া কোন ভারতীয় নারীর সংস্কৃতি নয়।অধিকাংশরই দাবি, গত দুটি সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মা’নসিকতা ফুটে উঠলেও দিল্লি হাইকোর্ট নারী স্বাধীনতা কে স্বীকৃতি দিয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টে বিবাহ বিচ্ছেদের মাম’লা করতে এসে এক স্বামীর অভিযোগ, তার স্ত্রী বিবাহের পর একটা ঘরে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ঘরের কোন কাজে তিনি হাত লাগাচ্ছেন না, এমনকি স্বামীর সঙ্গে শারী’রিক মিল’নে ও তার কোন আগ্রহ নেই। দিল্লি হাইকোর্টে স্ত্রীর এই ব্যবহারকে নিষ্ঠু’রতা বলে অভিযোগ তুলে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন বিশাল সিং।সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে দিল্লি হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই আচরণ কখনো নিষ্ঠুরতা বলে গণ্য হতে পারে না।বিচারপতি হিমা কোহলি ও আশা মেননের ডিভিশন বেঞ্চের মতে, প্রত্যেক নববধূর শ্বশুরবাড়ির অপরিচিত পরিবেশে আরষ্টতা থাকা স্বাভাবিক। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের উচিত তার কাছে নতুন পরিবেশকে সহজ করে তোলা।

১৯৯৪ সালে ভি ভগত ও তাঁর স্ত্রী ডি ভগতের মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বি পি জীবন রেড্ডি ও কুলদীপ সিং বলেছিলেন,” নি’ষ্ঠুরতা বলতে বোঝায় একে অন্যের ওপর তীব্র মান’সিক যন্ত্র’ণা এবং দুর্ভোগ তৈরি করা। যার ফলে পরস্পরের একে অপরের সঙ্গে থাকা অস’ম্ভব হয়ে ওঠে। একটি মা’মলায় যা নি’ষ্ঠুরতা, তা অন্য মা’মলায় নিষ্ঠুরতা নাও হতে পারে”। শীর্ষ আদালতের বহু বছর আগে এই রায়ে উল্লেখ করে বিশাল সিংয়ের মাম’লা খারিজ করে দেন দিল্লি হাইকোর্ট।

দিল্লি হাইকোর্টের আগে দ্বারকার ফ্যামিলি কোর্টে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন বিশাল। সেখানে তিনি তাঁর বিরু’দ্ধে অভিযো’গ করেছিলেন যে, বিয়ের আগে অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে সম্প’র্ক ছিল তার স্ত্রীর। এই অ’ভিযোগটি খারিজ করে দিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের বক্তব্য, “বিয়ের আগে একজন মহিলা তার জীবনে কি করেছেন, তার সঙ্গে বিয়ের পরের জীবনকে মিলিয়ে দিয়ে একটি অভিযোগ তুললে তা গ্রহণ করা হবে না”।

দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা নন্দিনী ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন করেছেন, “কোন মহিলা যদি এই একই প্রকার নিষ্ঠু’রতা অভিযোগে কোন স্বামীর বিরু’দ্ধে মাম’লা করতেন তাহলেও কি একই কথা বলত আদালত”?দিল্লির সমাজসেবী অনুরাধা মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, মানুষের মন থেকে স্টিরিওটাইপ ধারণার পরিবর্তন প্রয়োজন। একজন বিবাহিতা মহিলা কখনো কারো সম্পত্তি হতে পারে না, “তিনি ঘরের কাজ করতে বাধ্য নন,তার স্বামীর সঙ্গে শা’রীরিক স’ম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কারণে তার অ’নীহা থাকতেই পারে”।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.